google.com, pub-9578994771857186, DIRECT, f08c47fec0942fa0 মূল গ্রন্থকারের ভূমিকা। মিশকাতুল মাসাবীহ্ - PDF BOOKS

Header Ads

Header ADS

মূল গ্রন্থকারের ভূমিকা। মিশকাতুল মাসাবীহ্

 بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين

الْحَمد لله، ونحمده وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمن سيئات أَعمالنَا، من ييهده اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ شَهَادَةً تَكُونُ لِلنَّجَاةِ وَسِيلَةً، وَلِرَفْعِ الدَّرَجَاتِ كَفِيلَةً، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي بَعثه وطرق الْإِيمَانِ قَدْ عَفَتْ آثَارُهَا، وَخَبَتْ أَنْوَارُهَا، وَوَهَنَتْ أَرْكَانهَا، وَجَهل مَكَانهَا، فشيد صلوَات الله وسلامة عَلَيْهِ من معالمها مَا عَفا، وشفى من الغليل فِي تَأْيِيدِ كَلِمَةِ التَّوْحِيدِ مَنْ كَانَ عَلَى شفى، وأوضح سَبِيل الهادية لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْلُكَهَا، وَأَظْهَرَ كُنُوزَ السَّعَادَةِ لِمَنْ قَصَدَ أَنْ يَمْلِكَهَا. أَمَّا بَعْدُ؛ فَإِنَّ التَّمَسُّكَ بِهَدْيهِ لَا يَسْتَتِبُّ إِلَّا بِالِاقْتِفَاءِ لِمَا صَدَرَ مِنْ مِشْكَاتِهِ، وَالِاعْتِصَامُ بِحَبْلِ اللَّهِ لَا يَتِمُّ إِلَّا بِبَيَانِ كَشْفِهِ، وَكَانَ «كِتَابُ الْمَصَابِيحِ» - الَّذِي صَنَّفَهُ الْإِمَامُ مُحْيِي السُّنَّةِ، قَامِعُ الْبِدْعَةِ، أَبُو مُحَمَّد الْحُسَيْن بن مَسْعُود الْفراء الْبَغَوِيُّ، رَفَعَ اللَّهُ دَرَجَتَهُ - أَجْمَعَ كِتَابٍ صُنِّفَ فِي بَابِهِ، وَأَضْبَطَ لِشَوَارِدِ الْأَحَادِيثِ وَأَوَابِدِهَا. وَلَمَّا سلك - رَضِي الله عَنهُ - طَرِيق الِاخْتِصَارَ، وَحَذَفَ الْأَسَانِيدَ؛ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ النُّقَّادِ، وَإِنْ كَانَ نَقْلُهُ - وَإِنَّهُ مِنَ الثِّقَاتِ - كَالْإِسْنَادِ، لَكِنْ لَيْسَ مَا فِيهِ أَعْلَامٌ كالأغفال، فاستخرت الله تَعَالَى، واستوفقت مِنْهُ، فأعلمت مَا أغفله، فأودعت كل حَدِيث مِنْهُ فِي مقره كَمَا رَوَاهُ الْأَئِمَّة المنقنون، وَالثِّقَاتُ الرَّاسِخُونَ؛ مِثْلُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ، وَأَبِي الْحُسَيْنِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرَيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ الْأَصْبَحِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّد بن حَنْبَل الشَّيْبَانِيّ، وَأبي عِيسَى مُحَمَّد بن عِيسَى التِّرْمِذِيِّ، وَأَبِي دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدَ بْنِ شُعَيْبٍ النَّسَائِيِّ، وَأبي عبد الله مُحَمَّد بن يزِيد بن مَاجَهْ الْقَزْوِينِيِّ، وَأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيِّ، وَأَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عمر الدَّارَقُطْنِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيِّ، وَأَبِي الْحَسَنِ رَزِينِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْعَبْدَرِيِّ، وَغَيْرِهِمْ وَقَلِيلٌ مَا هُوَ. وَإِنِّي إِذَا نَسَبْتُ الْحَدِيثَ إِلَيْهِمْ كَأَنِّي أَسْنَدْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم؛ لأَنهم قدفرغوا مِنْهُ، وَأَغْنَوْنَا عَنْهُ. وَسَرَدْتُ الْكُتُبَ وَالْأَبْوَابَ كَمَا سَرَدَهَا، وَاقْتَفَيْتُ أَثَرَهُ فِيهَا، وَقَسَّمْتُ كُلَّ بَابٍ غَالِبًا عَلَى فُصُولٍ ثَلَاثَةٍ: أَوَّلُهَا: مَا أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ أَوْ أَحَدُهُمَا، وَاكْتَفَيْتُ بِهِمَا وَإِنِ اشْتَرَكَ فِيهِ الْغَيْرُ؛ لِعُلُوِّ دَرَجَتِهِمَا فِي الرِّوَايَةِ. وَثَانِيهَا: مَا أَوْرَدَهُ غَيْرُهُمَا مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمَذْكُورِينَ.

وَثَالِثُهَا: مَا اشْتَمَلَ عَلَى مَعْنَى الْبَابِ مِنْ محلقات مُنَاسِبَةٍ مَعَ مُحَافَظَةٍ عَلَى الشَّرِيطَةِ، وَإِنْ كَانَ مَأْثُورًا عَنِ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ. ثُمَّ إِنَّكَ إِنْ فَقَدْتَ حَدِيثًا فِي بَابٍ؛ فَذَلِكَ عَنْ تَكْرِيرٍ أُسْقِطُهُ. وَإِنْ وَجَدْتَ آخَرَ بَعْضَهُ مَتْرُوكًا عَلَى اخْتِصَارِهِ، أَوْ مَضْمُومًا إِلَيْهِ تَمَامُهُ؛ فَعَنْ دَاعِي اهْتِمَامٍ أَتْرُكُهُ وَأُلْحِقُهُ. وَإِنْ عَثَرْتَ عَلَى اخْتِلَافٍ فِي الْفَصْلَيْنِ مِنْ ذِكْرِ غَيْرِ الشَّيْخَيْنِ فِي الْأَوَّلِ، وَذِكْرِهِمَا فِي الثَّانِي؛ فَاعْلَمْ أَنِّي بَعْدَ تتبعي كتابي «الْجمع بَين الصحيحن» لِلْحُمَيْدِيِّ، وَ «جَامِعَ الْأُصُولِ» ؛ اعْتَمَدْتُ عَلَى صَحِيحَيِ الشَّيْخَيْنِ وَمَتْنَيْهِمَا. وَإِنْ رَأَيْتَ اخْتِلَافًا فِي نَفْسِ الْحَدِيثِ؛ فَذَلِكَ مِنْ تَشَعُّبِ طُرُقِ الْأَحَادِيثِ، وَلَعَلِّي مَا أطلعت على تِلْكَ الرِّوَايَة التس سَلَكَهَا الشَّيْخُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ. وَقَلِيلًا مَا تَجِدُ أَقُولُ: مَا وَجَدْتُ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي كتب وَجَدْتُ خِلَافَهَا فِيهَا. فَإِذَا وَقَفْتَ عَلَيْهِ فَانْسِبِ الْقُصُورَ إِلَيَّ لِقِلَّةِ الدِّرَايَةِ، لَا إِلَى جَنَابِ الشَّيْخِ رَفَعَ اللَّهُ قَدْرَهُ فِي الدَّارَيْنِ، حَاشَا لِلَّهِ مِنْ ذَلِكَ. رَحِمَ اللَّهُ مَنْ إِذَا وَقَفَ عَلَى ذَلِكَ نَبَّهَنَا عَلَيْهِ، وَأَرْشَدَنَا طَرِيقَ الصَّوَابِ. وَلَمْ آلُ جُهْدًا فِي التَّنْقِيرِ وَالتَّفْتِيشِ بِقَدْرِ الْوُسْعِ وَالطَّاقَةِ، وَنَقَلْتُ ذَلِكَ الِاخْتِلَافَ كَمَا وجدت. وَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ غَرِيبٍ أَوْ ضَعِيفٍ أَوْ غَيْرِهِمَا؛ بَيَّنْتُ وَجْهَهُ غَالِبًا، وَمَا لَمْ يُشِرْ إِلَيْهِ مِمَّا فِي الْأُصُولِ؛ فَقَدْ قَفَّيْتُهُ فِي تَرْكِهِ، إِلَّا فِي مَوَاضِع لغَرَض. وَرُبمَا تَجِد مَوَاضِع مهملهة، وَذَلِكَ حَيْثُ لم أطلع على رِوَايَة فَتَرَكْتُ الْبَيَاضَ، فَإِنْ عَثَرْتَ عَلَيْهِ فَأَلْحِقْهُ بِهِ، أَحْسَنَ اللَّهُ جَزَاءَكُ.

وَسَمَّيْتُ الْكِتَابَ. بِ «مِشْكَاةِ الْمَصَابِيحِ» وَأَسْأَلُ اللَّهَ التَّوْفِيقَ وَالْإِعَانَةَ وَالْهِدَايَةَ وَالصِّيَانَةَ، وَتَيْسِيرَ مَا أَقْصِدُهُ، وَأَنْ يَنْفَعَنِي فِي الْحَيَاةِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ، وَجَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ. حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ.

====

অনুবাদঃ

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

মূল গ্রন্থকারের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। আমরা আমাদের মনের কুমন্ত্রণা মন্দ কাজ হতে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন কেউ তাকে হিদায়াত করার সামর্থ্য রাখে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ’’আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন মাবূদ নেই’’ এটা আমার নাজাতের ওয়াসীলাহ্ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হবে। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা রসূল। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন সময় দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, যখন ঈমানের পথের সমস্ত নিশানা মুছে গিয়েছিল, ঈমানী আলোসমূহ নিভে গিয়েছিল, তার স্তম্ভসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং মানুষ সে সবের স্থান পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে ঐসব জিনিসকে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন এবং ঈমানের মশালকে উঁচু করে ধরলেন। যারা গুমরাহীর রোগে মরতে বসেছিল, তাদেরকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাওহীদের কালিমাহ্ দ্বারা আরোগ্য করলেন, যারা হিদায়াতের পথ খুঁজছিল তাদেরকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ দেখালেন এবং যারা সৌভাগ্য ভান্ডারের মালিক হতে চেয়েছিল, তাদের জন্য তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে পথ পরিষ্কার করে দিলেন।

অতঃপর নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষ থেকে প্রকাশিত বিষয়াবলীর অনুসরণ ব্যতীত তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরাটা পরিপূর্ণ হবে না এবং আল্লাহর রজ্জু তথা কুরআনকে মজবুত করে ধারণ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যা ব্যতীত পূর্ণতা লাভ করবে না। ইমাম মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্ আবূ মুহাম্মাদ হুসায়ন ইবনু মাস্ঊদ ফাররা বাগাবী (মৃঃ ১৫৬ হিঃ) কর্তৃক রচিত ’’মাসা-বীহ’’ শীর্ষক গ্রন্থটি বিরল হাদীসসমূহকে অন্তর্ভুক্তধারী হাদীস বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। সংকলক (রহঃ) সানাদসমূহ বিলুপ্ত করার মাধ্যমে হাদীস সংকলনে সংক্ষিপ্ততার পথ অবলম্বন করলে কতিপয় সমালোচক এতে সমালোচনা করেন। যদিও তাঁর মতো একজন নির্ভরশীল (সিক্বাহ্) ব্যক্তির হাদীস বর্ণনা করাই সানাদতুল্য কিন্তু সানাদবিহীন গ্রন্থ সানাদবিশিষ্ট গ্রন্থের মতো নয়। তাই আল্লাহর নিকট সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রার্থনা করে তিনি (ইমাম বাগাবী) যেগুলো সানাদবিহীন অবস্থায় উল্লেখ করেছেন আমি সে হাদীসগুলোতে সানাদ তথা সাহাবীর নাম সংযুক্ত করেছি, যেমনভাবে

() আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী,[1]

() আবুল হাসান মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল কুশায়রী,[2]

() আবূ আবদুল্লাহ মালিক ইবনু আনাস আল আসবাহী,[3]

() আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইদ্রীস আশ্ শাফি,[4]

() আবূ আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হাম্বাল আশ্ শায়বানী,[5]

() আবূ ঈসা মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা আত্ তিরমিযী,[6]

() আবূ দাঊদ সুলায়মান ইবনুল আশ্আস আস্ সিজিস্তানী,[7]

() আবূ আবদুর রহমান আহমাদ ইবনু শুআয়ব আন্ নাসায়ী,[8]

() আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু মাজাহ্ আল্ কাযভিত্নী,[9]

(১০) আবূ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান আদ্ দারিমী,[10]

(১১) আবুল হাসান আলী ইবনু উমার আদ্ দারাকুত্বনী,[11]

(১২) আবূ বকর আহমাদ ইবনুল হুসায়ন আল বায়হাক্বী,[12]

(১৩) আবুল হাসান রযীন ইবনু মুআবিয়াহ্ আল্ আবদারী (রহিমাহুমুল্লাহ)[13

প্রমুখ ন্যায়, দক্ষ বিশ্বস্ত ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমি কোন হাদীসের শেষে ইমামের নাম উল্লেখ করলে মনে করতে হবে যে, আমি হাদীসের পূর্ণ সানাদ বর্ণনা করছি। কারণ, তাঁরা তাঁদের কিতাবে (পূর্ণ সানাদ বর্ণনা করার) কাজ সম্পন্ন করে এর দায়িত্ব থেকে আমাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

তিনি (মাসা-বীহ গ্রন্থকার) তাঁর কিতাবকে যেভাবে বিভিন্ন বাব বা অধ্যায়ে সাজিয়েছেন, আমিও তা- করেছি এবং ব্যাপারে তারই পথ অনুসরণ করেছি। তবে আমি প্রায় বাবকেই তিনটি ফাস্ বা অনুচ্ছেদে ভাগ করেছি (অবশ্য তিনি করেছিলেন দু ভাগ)

প্রথম ভাগ : যা বুখারী মুসলিম (শায়খায়ন) উভয়ে অথবা তাঁদের কোন একজন বর্ণনা করেছেন। তবে, যেহেতু হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে শায়খায়নের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে, তাই তাঁদের নামের সাথে অন্য নাম উল্লেখের প্রয়োজন হয় না, এজন্য আমি তাঁদের নামের সাথে অন্য কারো নাম উল্লেখ করিনি, যদিও সে সকল হাদীস অন্যরাও বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় ভাগ : এতে রয়েছে বুখারী, মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ইমামগণের বর্ণিত হাদীস।

তৃতীয় ভাগ : (আমার পরিবর্ধিত ভাগে) বাবের (অধ্যায়ের) বিষয় সংশ্লিষ্ট কিছু নতুন হাদীস সংগ্রহ করেছি।[14] যার কোন কোনটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয়; বরং কোন সাহাবী অথবা তাবিঈর বাণী।[15]

যদি [ইমাম বাগাবী (রহঃ)-এর সংগৃহীত] কোন হাদীস কোন বাব বা অধ্যায়ে না পাওয়া যায়, তাহলে মনে করতে হবে যে, অন্য কোন অধ্যায়ে এরূপ হাদীস রয়েছে বলেই আমি তাকে বাদ দিয়েছি। এমনিভাবে যদি কোন হাদীসের কোন অংশবিশেষকে বাদ দিয়ে থাকি অথবা কোন অংশ বৃদ্ধি করে থাকি, তাহলে বুঝতে হবে যে, প্রয়োজনবোধেই আমি এরূপ করেছি। এছাড়া ইমাম বাগাবী (রহঃ)-এর সাথে আমার যদি এরূপ কোন মতভেদ দেখা যায় যে, আমি প্রথম ফাসলে শায়খায়ন ব্যতীত অন্য কারো নামের উদ্ধৃতি দিয়েছি অথবা দ্বিতীয় ফাসলে শায়খায়নের মধ্যে কারো নাম উল্লেখ করেছি। তার কারণ এই যে, আমি হুমায়দী[16] ’’আল জাম্ বায়নাস্ সহীহায়ন’’ (যাতে তিনি শায়খায়নের হাদীস একত্র করেছেন) ’’জা-মিউল উসূল’’[17] গ্রন্থদ্বয় পর্যবেক্ষণের পরই কেবল শায়খায়নের মূল কিতাবের উপরই নির্ভর করেছি।

এতদ্ব্যতীত যদি কোন হাদীসের কোন বিষয়ে এরূপ মতভেদ দেখা যায় যে, তিনি (মাসা-বীহ গ্রন্থকার) তাকে এক শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর আমি বর্ণনা করেছি ভিন্ন শব্দে, তার কারণ হলো, হাদীসের সানাদ বিভিন্ন। তিনি যে সানাদে বর্ণনা করেছেন সে সানাদ আমার হস্তগত হয়নি; আমি যে সানাদে যে শব্দ পেয়েছি তা- বর্ণনা করেছি। এরূপ স্থান খুব কমই দেখা যাবে যে, যেখানে আমি বলেছিঃ এটা হাদীসের কোন প্রসিদ্ধ কিতাবে পাওয়া যায়নি অথবা আমি এর বিপরীত পেয়েছি। যদি কোথাও এরূপ দেখা যায় তাহলে মনে করবেন, এটা আমার অনুসন্ধানেরই ত্রুটি; ইমাম বাগাবী (রহঃ)-এর নয়। আল্লাহ সে বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করুন যে এরূপ সানাদ অবগত হয়ে আমাকে তা অবহিত করবে। অবশ্য আমিও আমার সাধ্যানুযায়ী অনুসন্ধানে চেষ্টার ত্রুটি করিনি। তিনি যেখানে (কোন হাদীস বা শব্দ সম্পর্কে) বর্ণনার বিভিন্নতা দেখিয়েছেন, আমিও সেখানে তা- করেছি।

এছাড়া তিনি যে সকল হাদীসকে গরীব বা ঈফ বলে অভিহিত করেছেন, অধিকাংশ স্থলে আমি তার কারণ ব্যাখ্যা দিয়েছি। আর যেখানে কোন হাদীসকে কোন প্রসিদ্ধ ইমাম গরীব বা ঈফ প্রভৃতি বলা সত্ত্বেও তিনি তার প্রতি ইঙ্গিত করেননি, আমিও সেখানে সেরূপই রেখে দিয়েছি। অবশ্য কোন কোন জায়গায় আবশ্যকবোধে এর ব্যতিক্রমও করেছি। কোন কোন জায়গায় এরূপও পাওয়া যাবে যে, সেখানে আমি কারো উদ্বৃতি দেইনি; বরং হাদীসের শেষে স্থান শূন্য রেখে দিয়েছি। তার কারণ এই যে, আমি তার সন্ধান কোথাও পাইনি। যদি কেউ কোথাও তার সন্ধান পান, তাহলে দয়া করে উদ্ধৃতি দিয়ে দিবেন [অবশ্য পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ উদ্ধৃতি দিয়ে সকল শূন্যতা পূর্ণ করে দিয়েছেন] আল্লাহ আপনাদেরকে এর জাযা (প্রতিদান) দিবেন। অবশেষে আমি কিতাবের নামকরণ করলাম মিশকা-তুল মাসা-বীহ আমরা আল্লাহর নিকট তাওফীক্ব, সাহায্য, হিদায়াত, নিরাপত্তা আমাদের উদ্দেশ্যের সহজতা প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এর দ্বারা আমার এবং সমস্ত মুসলিম নর-নারীর ইহ পরজগতে উপকার সাধন করেন। আমীন!

আল্লাহর সাহায্যই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক। তিনি ছাড়া কারো কোন শক্তি বা সামর্থ্য নেই, তিনি সুউচ্চ সুমহান।

========


(সূচিপত্র) (পরের পৃষ্ঠা)

No comments

Powered by Blogger.