ছিয়াম সংক্রান্ত কিছু সহিহ হাদিছ –
ছিয়াম সংক্রান্ত কিছু সহিহ হাদিছ –
------------------------------------
০১। নিজ দেশের বা যে দেশে অবস্থান করবে সেই দেশের চাঁদ দেখেই ছিয়াম পালন ও ভঙ্গ করবে- (ছহীহ মুসলিম ২৪১৮)
০২। আজানের সাথে ছাহরী ও ইফতারের সম্পর্ক নয় বরং সময়ের সাথে ছাহরী ও ইফতারের সম্পর্ক- (ছহীহ মুসলিম ২৪২৭)
০৩। দেরীতে ছাহরী খাওয়া ও সূর্যাস্তের পর পর ইফতার করা সুন্নাহ, দেরিতে ইফতার করা ইহুদীদের স্বভাব- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৯৬-১৬৯৮)
০৪। ফরজ ছিয়াম বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ফজরের পূর্বে নিয়ত করা আবশ্যক- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭০০)
০৫। নিয়ত মুখে পাঠ করা বিদ্আত, ছিয়ামের নিয়ত মুখে পাঠ করলে ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে- (ছহীহ বুখারী ১৮৭০)
০৬। পাত্রে ছাহরী খাবার বিদ্যমান থাকাবস্থায় সময় শেষ হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় খাবার খেয়ে নিবে- (সুনান আবু দাউদ ২৩৫০)
০৭। কাঁচা খেজুর, না পেলে শুকনা খেজুর, না পেলে সাদা পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নাহ- (জামে তিরমিজী ৬৯৬)
০৮। ছিয়াম পালনকারীকে ইফতার করানো ছিয়াম রাখার সমমান ছওয়াব- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৪৬)
০৯। ছিয়াম পালন করা অবস্থায় ভুলে পানাহার করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়না- (ছহীহ বুখারী ১৯৩৩)
১০। ছিয়াম পালন অবস্থায় নাকের গভীরে পানি প্রবেশ করানো মাকরুহ, এমনকি অজুর সময়েও- (জামে তিরমিজী ৭৮৮)
১১। ঘুমন্ত মানুষকে ছাহরীর জন্য ডাকতে আজান দেওয়া জায়েয- (ছহীহ মুসলিম ২৪৩১)
১২। ছিয়াম পালন অবস্থায় ক্লান্ত হয়ে গেলে মাথায় পানি ঢালতে কোন বাধা নেই- (সুনান আবু দাউদ ২৩৬৫)
১৩। ছিয়াম পালন অবস্থায় রক্তদানে কোন বাধা নেই, যদি শারীরিক সমস্যা না হয়- (সুনান আবু দাউদ ২৩৭২)
১৪। সূর্যাস্ত হয়েছে মনে ইফতার করে নিলে, পরে সূর্য দেখা দিলে, তা পরে কাজা দিতে হয়- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭৪)
১৫। ইচ্ছাকৃত বমি করলে ছিয়াম অবশ্যই কাযা দিতে হবে- (জামে তিরমিজী ৭০২)
১৬। ছিয়াম পালন করা অবস্থায় বমি করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়না, তবে বমি যদি পান করে নেয়, তবে পরে কাজা দিতে হয়- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭৬)
১৭। ছিয়াম পালনরত অবস্থায় সফর করলে, পরে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে ছিয়াম ভঙ্গ করা যায়, তবে পরে অবশ্যই কাযা দিতে হবে- (ছহীহ বুখারী ১৯৪৪)
১৮। কাযা ছিয়াম রেখে কেউ মারা গেলে তার অভিভাবকগণ রেখে দিবেন- (ছহীহ বুখারী ১৯৫২)
১৯। কাজা ছিয়াম পরবর্তী শা'বান মাস পর্যন্ত দেরি করা জায়েয- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৬৯)
২০। ছিয়াম পালন করা অবস্থায় সুরমা লাগানো যায়- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭৮)
২১। শারীরিক অবস্থা ভাল না হলে ছিয়াম পালন করা অবস্থায় হিজামা করা নিষেধ, অন্যথায় জায়েয- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭৯, ছহীহ বুখারী ১৯৪০)
২২। কাফফারা দেওয়া ব্যক্তি অতি দরিদ্র ব্যক্তি হলে, কাফ্ফারার খাবার পরিবারকে খাওয়ানো জায়েয- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭১)
২৩। সফররত অবস্থায় ছিয়াম পালন করা না করা ইচ্ছাধীন-(সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৬১)
২৪। ছিয়াম পালন অবস্থায় মিথ্যাচার, পরনিন্দা ও পরিচর্চা করা হারাম- (ছহীহ বুখারী ১৯০৩)
২৫। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন গুলোতে ছিয়াম পালন করা নিষেধ- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭২১)
২৬। শুধুমাত্র জুম’আ বার ছিয়াম পালন করা নিষেধ- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭২৩)
২৭। ঈদের ছলাতে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া সুন্নাহ- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৫৪)
২৮। মৃত ব্যক্তির বাদ যাওয়া ছিয়াম তার নিকটাত্মীয়রা রেখে দিবেন- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৫৯)
২৯। লায়লাতুল কদর হচ্ছে ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ তারিখ যেকোন দিন- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৬৬)
৩০। পূর্ণ বছর ছিলাম পালন করা নিষেধ- (সুনান নাসায়ী ২৩৭৪)
৩১। স্থায়ী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম হলে ফিদিয়া দিবে, আর ফিদিয়ার পরিমাণ হল একজন ব্যক্তির এক বেলার খাবার- (সুনান নাসায়ী ২৩১৭ ও সূরা বাকারা ১৮৪)
৩২। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে শা'বান মাসের ৩০ তারিখ পূর্ণ করেই রমাদান শুরু করবে- (ছহীহ বুখারী ১৯০০)
৩৩। নফল ছিয়াম স্বামীর অনুমতি ছাড়া নিষেধ- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৬২)
৩৪। ছোটদের ছিয়াম পালনে অভ্যস্ত করা নৈতিক দায়িত্ব- (ছহীহ বুখারী ১৯৬০)
৩৫। রাতদিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ- (ছহীহ বুখারী ১৯৬১)
৩৬। মেহমানদের সম্মানার্থে নফল ছিয়াম ভঙ্গ করা জায়েয, এতে কাযাও দিতে হয়না- (ছহীহ বুখারী ১৯৬৮, জামে তিরমিজী ৭৩১)
৩৭। খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে না, এমন চিকিৎসা ও ইনজেকশন গ্রহণ করা জায়েয- (ছহীহ মুসলিম ১১৫১)
৩৮। গোসল ফরজ বা অপবিত্র অবস্থায় ছাহরীর পানাহার করতে কোন বাধা নেই- (ছহীহ বুখারী ১৯২৫)
৩৯। গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলার জন্য ছিয়াম পালন করা না করা ইচ্ছাধীন- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৬৭)
৪০। ঋতু অবস্থায় রাখা হারাম, তবে পরে কাজা আদায় করে দিতে হবে- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭০)
৪১। ছিয়াম পালন করা অবস্থায় (কাম ভাব ব্যতীত) স্ত্রীকে চুম্বন দেওয়া বৈধ, তবে যুবকদের জন্য উচিত নয়- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৮৩, ১৬৮৪, সুনান আবু দাউদ২৩৮৭)
৪২। ছিয়াম পালন কারী ব্যক্তি বয়স্ক হলে, স্ত্রীর সংস্পর্শে যাওয়া জায়েয- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৮৮)
৪৩। যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া ছিয়ামের কাফফারা একাধারে ৬০ টি সিয়াম, অপারগ হলে ৬০ জন মিসকীনকে পানাহার করাতে হয়- (সুনান ইবনে মাজাহ ১৬৭১)
No comments